থাইরয়েড – নীরব কিন্তু ভয়ংকর একটি রোগ, কারন থাইরয়েড শুধু ওষুধে পূর্ণ সমাধান আসে না। থাইরয়েডের কারণে শরীর শুকিয়ে যাওয়া আর মোটা হয়ে যাওয়া, আর এই দুটোই ভিন্ন ধরনের থাইরয়েড সমস্যার লক্ষণ। এগুলোর আলাদা আলাদা নাম আছে:
# থাইরয়েডের কারণে শরীর শুকিয়ে যাওয়া – যখন শরীর অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যায়, ওজন কমে যায়, বুক ধড়ফড়, হাত কাঁপা, ঘাম বেশি আসে — তখন সাধারণত কারণ হলো Hyperthyroidism (হাইপারথাইরয়েডিজম)।
# থাইরয়েডের কারণে মোটা হয়ে যাওয়া – যখন থাইরয়েড কম কাজ করে— ঘুম বেশি পায়, শরীর ভারি লাগে, ফুলে যায়, ওজন বাড়ে— তখন কারণ হলো Hypothyroidism (হাইপোথাইরয়েডিজম)।
# থাইরয়েড হলে শরীরে অন্যান্য মারাত্মক যে সমস্যাগুলো হতে পারে –
* হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা, যথা – হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে যায়, হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে যাওয়া, ব্লাড প্রেসার অস্বাভাবিক হওয়া
* তীব্র মানসিক চাপ ও উদ্বেগ, যথা – মুড সুইং, বিষণ্নতা, মনোযোগ কমে যাওয়া, ভুলে যাওয়া, স্নায়বিক দুর্বলতা ও হাত–পা কাঁপা
# থাইরয়েডের লক্ষনসমূহ –
* শরীর হঠাৎ শুকিয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাওয়া
* খাবার থেকে শক্তি না পাওয়া
* ক্লান্তি ও দুর্বলতা সবসময় থাকা
* কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া (হাইপোথাইরয়েডে)
* নারীদের প্রজনন ও পিরিয়ড সমস্যা
এছাড়া প্রচণ্ড চুল পরা, ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হওয়া, নখ ভঙ্গুর হওয়া, মুখে ফোলা ভাব, পরিপাকতন্ত্রে বড় সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য (Hypothyroid), পেটে ব্যথা সমস্যা দেখা দেয় ।
অনেক সময় কিডনি ও লিভারের উপর চাপ পরে পানি জমে শরীর ফুলে যাওয়া, কিডনি ফাংশন কমে যাওয়া, এনজাইমের পরিবর্তন ও লিভারের ক্ষতি, রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গিয়ে রক্তনালি ব্লক হওয়া, এলডিএল / খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি
তাছাড়া রক্তনালি সংকুচিত হয়ে স্ট্রোক বা হার্ট ব্লকের ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেকাংশে। পাশাপাশি হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া, ক্যালসিয়াম শোষণে সমস্যা, দ্রুত হাড় ক্ষয়, অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি, নার্ভের সমস্যা, হাত–পা অবশভাব, পেশিশক্তি কমে যাওয়া, ঘুমের জটিলতা, চোখে জ্বালা, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা সমস্যাসমূহ দৃশ্যমান হয়ে থাকে।
# গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য – থাইরয়েডের ভয়ংকর প্রভাব থেকে নিজেকে বাঁচাতে—সঠিক চিকিৎসার সাথে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট অনেক বেশী দরকারী।
