প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের আশেপাশে থাকা অনেক গাছ-গাছড়া, উদ্ভিদ ও বিভিন্ন তরুলতা নানা ঔষধি কাজে মানুষ ব্যবহার করে আসছে এবং এর সঠিক ফল পাচ্ছে।

 

চলুন, জেনে নেওয়া যাক, আমাদের আশে-পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমন ১০ টি গাছের নাম ও তাদের উপকারিতা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যাদি – 

 

১. চিরতা

চিরতাঅনেক রোগের উপকারিতা করে থাকে। এই গাছের পাতা ডায়াবেটিস রোগীরা খেয়ে থাকেন। চিরতার পাতাগুলো গুড়ো করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে অনেকে খেয়ে থাকেন। মানুষের পেট খারাপ, ডায়রিয়া, জ্বর ও বাত ব্যথার ক্ষেত্রে সাধারন্ত্ব পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া হয়।

 

২. মেন্দা

আমাদের দেশে এই গাছটি অঞ্চলভেদে কারজুকি, চাপাইত্তা, রতন, খারাজুরা নামেও পরিচিতি রয়েছে। কিন্তু  গ্রামাঞ্চলে এখনো পেটের পীড়া এমনকি রক্ত-আমাশা হলে পাতা বেটে পানিতে মিশিয়ে দুইবেলা খাওয়া হয়। চিকিসাকরা গবেষণায় দেখা গেছে, মেন্দা গাছ কঠিন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ন কার্যকর ভূমিকা রাখতে  পাড়ে।

এই গাছের সমগ্র টাই ব্যবহিত হয় যেমন- বাকল ও পাতা উভয়ই। এই মেন্দা একসময় হাড় ভেঙ্গে গেলে ছালের মিশ্রণ স্থানীয়ভাবে প্লাস্টারিংয়ে ব্যবহার করা হতো। আবার অনেক সময় বুকের ব্যথার জন্য মালিশ করা হয়।

 

৩. বনধনে

এই গাছ টি এমন ঔষধী যা পেটের ব্যথা ও ডায়রিয়ার ওষুধে কার্যকর। এই গাছটি ঘা-পাঁচড়ার ক্ষেত্রেও অনেক কার্যকারিতা পাওয়া যায় । এই গাছের পাতার মিশ্রণ ঘা-পাঁচড়ার লাগানো হয়। এতে দ্রুত্ব সেরে যায়

 

৪. ভাট ফুল বা বনজুঁই

এই গাছটি সাধারন্ত্ব কৃমিনাশক এবং ডায়রিয়ার জন্য কাজ করে। তবে কাচা হলুদের সঙ্গে পাতার রস মিশিয়ে খাওয়া যায়। এই ভাবে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। যাদের চর্ম রোগ রয়েছে, তারা এই ফুলের রস মালিশ করে করতে পারেন।

 

৫. নিম

নিম গাছএর পাতা ডায়াবেটিসের রোগীরা শুকিয়ে ছোট ছোট ট্যাবলেট বানিয়ে সকাল বিকেল খেয়ে থাকেন। এছাড়া এই পাতা বহুকাল থেকে চিকেন পক্স, চামড়ার অ্যালার্জির মতো সমস্যায় নিমের পাতা গরম পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এমনকি পোকা মাকড়ের কামড়ের ক্ষত হলে, সেখানে নিম আর হলুদের রস একসাথে মিশিয়ে লাগানো হয়ে থাকে। দাঁতের ব্যথার এবং মাড়ির ব্যাথা জন্য নিমের ডালের রস ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

 

৬. তুলসী

তুলসি গাছবাংলাদেশের অনেকের কাছেই একটি পরিচিত নাম। হিন্দু দের বাড়িতে সব সময় পাওয়া যায়। বিশেষ করে গ্রামের অনেক বাড়িতেই দেখা যায়। তুলসি সর্দিজনিত রোগে এই গাছটির পাতা খাওয়া হয়। আবার অনেকে চায়ের সঙ্গেও ভিজিয়ে খান। কেউ যদি তুলসী পাতা ভেজে ঘি দিয়ে নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

 

৭.নয়নতারা

নয়নতারা ফুলের মধ্যে অনেক উপকারিতা পাওয়া যায় যেমনঃ মানসিক চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করতে পাড়ে।মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি ঘটায়। রক্তক্ষরণ হ্রাস করতে সহেতা করে। অনিদ্রা দূরীকরণে সহেতা করে। হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে। ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এমনকি অ্যাংজাইটি কমাতেও সমান কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

নয়নতারা ফুলের ছবি

 

৮. তকমা

এই খাদ্য টি হজমশক্তি বৃদ্ধিকারক ও ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

 

৯. কেশরাজ বা কালোকেশী

বেশির ভাগ ভারত উপমহাদেশে বহুকাল ধরেই চুলের যত্নে এই গুল্মজাতীয় গাছটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই কেশরাজ এটি চুল পড়া বন্ধ করতে সহায়তা করে বলে বিশ্বাস করা হয়। গবেষণার সময় অনেকে বলেছেন, মেয়েদের মাসিকের সমস্যায় অনেকে এই পাতার রস খেয়ে থাকেন। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এটা ছত্রাকরোধী বা  অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসাবে প্রমাণিত হয়।

 

১০. বাসক

বাসক পাতানানা ধরনের উপকারিতা আছে তার মধ্যে -ঠাণ্ডার জন্য এবং ফুসফুসের নানা সমস্যায়  বাসক পাতার রস ফুটিয়ে সেই রস বা পানি খাওয়ানো হয়। আবার শ্বাসনালীর সমস্যায় লালাগ্রন্থিকে বাসক পাতার রস সক্রিয় করে বলে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে। তবে এটি অধিক মাত্রায় খেলে বমি ভাব হতে পারে। অতএব এটি অধিক মাত্রায় খাওয়া যাবে না।